
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসনে এইবার হচ্ছে ত্রিমুখী লড়াই। আটজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট হিসেবে তিনজন রয়েছেন আলোচনায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শওকতুল ইসলাম শকু ধানের শীষ প্রতীকে, জাতীয় পার্টির তিনবারের সংসদ সদস্য নবাব আলী আব্বাস ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র এবং কাপপিরিচ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বাড়ি কুলাউড়ায়। এখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন সায়েদ আলী। পার্শ্ববর্তী দুই আসনে জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় সংগঠনের কর্মীরা এখানে বেশ সক্রীয়। পার্শ্ববর্তী কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরের শিবির কর্মীরা রাতদিন কুলাউড়ার মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন। তবে মৌলভীবাজারের জামাত প্রার্থী নির্বাচনে ফেরত আসায় এখন বহিরাগত কর্মীদের উপস্থিতি কমেছে। আসনটিতে বিজয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া জামায়াত। তবে অতীতে দুইবার এই আসনে জামানত হারিয়েছেন জামায়াতের বর্তমান আমীর। ফলে এ আসনে অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয় জামায়াতের।
কুলাউড়ায় ইসলামী ঘরানার মধ্যে সুন্নীরাই সবচেয়ে প্রভাবশালী। এ আসনে সুন্নী ঘরানার লোকজন প্রখ্যাত পীরে কামিল আল্লামা আব্দুল লতিফ ফুলতলীর অনুসারী। ফুলতলীর অরাজনৈতিক সংগঠন আনজুমানে আল ইসলাহ সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ। ধর্মীয় ঘরানায় গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ ও সাবেক তিন বারের জনপ্রতিনিধি হিসেবে মাওলানা সাহেদ এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী। মৌলভীবাজার-২ আসন কেবল কুলাউড়া উপজেলা নিয়েই গঠিত। মাওলানা সাহেদ তিনবার কুলাউড়া উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করে ইতোমধ্যেই এই সংসদীয় আসনে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। সনাতন ধর্মালম্বী ও চা শ্রমিকদেরও সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক মামলায় হয়রানি না করার আশ্বাস দেওয়ায় আওয়ামীলীগের সাধারণ ভোটারদের মাঝেও তার প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও তার পক্ষে আল ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামিয়ার বিপুল কর্মী বাহিনীর প্রচারণা এবং উপজেলায় তার নিজস্ব ভোট ব্যাংকের ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের থেকে তিনি বেশ খানেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশের সাথে ধানের শীষের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকুর দূরত্ব রয়েছে। শওকতুল ইসলাম পূর্বে কোনো নির্বাচনে বিজয়ী না হলেও এবার বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু সময় গড়াতেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সংঘবদ্ধ প্রচারণার ঘাটতি ইতোমধ্যেই তার সম্ভাবনা কিছুটা ফিকে করেছে। অসুস্থতা জনিত কারণে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকায় প্রচারণায় ভাটা পড়ে। তবুও দমে যাবার পাত্র নন শওকতুল ইসলাম শকু। হাতে ক্যানেলা নিয়েও করছেন জনসংযোগ। ধানের শীষের প্রতি মানুষের আগ্রহের ফলে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত শওকতুল ইসলামকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবেই মনে করে হচ্ছে। ধানের শীষ ও কাপপিরিচের প্রার্থী দুজনেই পৌরসভার বাসিন্দা। এই কারণে সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেদ খানের জনপ্রিয়তা ভাগ বসাচ্ছে ধানের শীষের প্রার্থীর ভোটব্যাংকে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউর রহমান চৌধুরী ম্যান্ডেলাও পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলায় তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।
জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে রয়েছেন মো. আব্দুল মালিক। লাঙল প্রতীকের তিনবারের নির্বাচিত এমপি নবাব আলী আব্বাস এইবার ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় প্রতীক না থাকার কারণে এক সময়ের জনপ্রিয় নেতাকে এইবার বেগ পেতে হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিনের রাজনীতির ফলে তিনি কুলাউড়ার সকল মহলে বেশ পরিচিত নাম। তার সজ্জন ইমেজের ফলে সকল মহলে গ্রহণযোগ্যতাও অনেক। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় প্রচারণার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল মাঠে নামাতে বেগ পেতে হচ্ছে সাবেক এই এমপিকে। তবে বারবার নির্বাচিত এই সাবেক এমপি হাল না ছাড়ায় এখনো আছেন অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে।
১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কুলাউড়া উপজেলা। কেবল একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৩০ হাজার। বিএনপি এবং দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমুখী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে চা শ্রমিক, সংখ্যালঘু ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভোট।