
ইসলাম ও শরীয়া নিয়ে জাহিদ হাসানের বই ঘিরে বিতর্ক, নিষিদ্ধের দাবি
স্টাফ রিপোর্ট :
লেখক জাহিদ হাসানের তিনটি বইকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘ইসলামে দাসপ্রথার কালো অধ্যায়’, ‘আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও প্রায়োগিক বিজ্ঞানের দ্বৈরথ’ এবং ‘শরীয়ার ধারণাগত, কাঠামোগত দ্বন্দ্ব ও অদৃশ্য ফাটল’—শীর্ষক বইগুলোতে ইসলাম ধর্ম ও শরীয়া আইন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি অংশ এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, বইগুলোতে ইসলামের ইতিহাস ও দাসপ্রথার বিষয়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতাকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নাস্তিক্যবাদী ধারণা উসকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের। এছাড়া ইসলামী শরীয়ার মৌলিক কাঠামো নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বইগুলো প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবাদের সুর দেখা যায়। বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তারা লেখকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে আঘাত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বইগুলো অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং লেখকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বিতর্কিত লেখালেখি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
একজন নাগরিক প্রতিনিধি বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা কোনো সৃজনশীল কাজ হতে পারে না। সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয় রোধে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বই নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইগুলো বয়কটের আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিভিন্ন আলেম সমাজ ও সচেতন মহল সরকারের কাছে দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ধর্মীয় অবমাননা করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।