
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি এখন ইউরোপের দেশ মাল্টায় পাড়ি জমানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
দীর্ঘ আট মাস ধরে আত্মগোপনে থাকা এই নেতার বর্তমান অবস্থান এবং পরিচয় পরিবর্তন নিয়ে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর গ্রেফতার এড়াতে আলম খান মুক্তি নিজের নাম পরিবর্তন করেছেন। বর্তমানে তিনি সেখানে ‘রমেশ চন্দ্র’ পরিচয় ব্যবহার করছেন। কেবল নাম পরিবর্তনই নয়, সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি জটিলতা কাটাতে এবং স্থানীয়দের আস্থা ও সহায়তা পেতে তিনি এক ভারতীয় নারীকে বিবাহ করেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।
আলম খান মুক্তির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ভারতে তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না। গত ৪-৫ মাস ধরে তিনি সপরিবারে ভারত থেকে ইউরোপের দেশ মাল্টায় যাওয়ার জন্য জোর লবিং ও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এই বিদেশ যাত্রার পরিকল্পনায় বিপুল অংকের অর্থ লেনদেনের গুঞ্জনও রয়েছে। মূলত ভারত থেকে নিরাপদ কোনো দেশে পাড়ি জমানোই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই সিলেটের অনেক প্রভাবশালী নেতার মতো আলম খান মুক্তিও আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে খবর আসে তিনি অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। সিলেটে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও বর্তমানে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
রমেশ চন্দ্র নামে ভুয়া পরিচয় তৈরি করে তাঁর ভারত ছাড়ার এই মরিয়া চেষ্টা নিয়ে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।