
দুই হাজার হোল্ডিংয়ে অনিয়ম, তদন্তে প্রমাণ মিললেও ২৬ দিনেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই
স্টাফ রিপোর্ট :
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)-এর কর শাখায় বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এই দুর্নীতির নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন কর ধার্য শাখার সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে মেয়র দপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) চন্দন দাশ।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরও ২৬ দিন পার হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সিসিকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার হোল্ডিংয়ের তথ্যে জালিয়াতি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১০টি হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্তই করা হয়নি, যার ফলে প্রায় ৫.৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ১,৮৩১টি হোল্ডিং কম্পিউটারে এন্ট্রি না করায় গত কয়েক বছরে প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
আম্বরখানা এলাকার বাণিজ্যিক ভবন ‘আর্কাডিয়া’র কর নির্ধারণেও বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির জন্য চন্দন দাশ, সহকারী অ্যাসেসর শেখর দেবনাথ এবং আহমদুজ্জামানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সাধারণ কর্মকর্তা হয়েও চন্দন দাশ গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য। তার মালিকানাধীন সম্পদের মধ্যে রয়েছে চালিবন্দর এলাকার মাদানি সিটিতে একটি পাঁচতলা ভবন, যা সম্প্রতি প্রায় ২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া শিবগঞ্জ এলাকায় ‘সাইফা সামিট’ ফ্ল্যাটে প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার নামে।
এছাড়া তার মালিকানায় চারটি ট্রাক এবং সিলেটসহ আশপাশের এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল জমিজমা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, শ্যালিকার মাধ্যমে তিনি আমেরিকায় প্রায় শতকোটি টাকা পাচার করেছেন।
সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবং পরবর্তী সময়ে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর আস্থাভাজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সিসিকে তার একচ্ছত্র প্রভাব তৈরি হয়। চালিবন্দর এলাকায় তার প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ওএসডি থাকলেও করপোরেশনের ভেতরে তার প্রভাব এখনো বিদ্যমান বলে জানা গেছে।
রাজস্ব ফাঁকির এই বিশাল অঙ্ক উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য নগরবাসী এখন উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।