
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দলীয়করণ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বুধবার সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“আরেকটি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার আর ভুল নয়, পরিপূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে চাই।”
সংসদে গিয়ে জবাবদিহিতার জায়গা থেকে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন,
“হাদী হত্যার বিচার নিয়ে আমরা একচুলও পিছপা হবো না। যত বড় হেডামওয়ালা হোক, সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি তরুণদের কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় যুক্ত করার অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনে দলীয় লোক নিয়োগের কড়া সমালোচনা করে পাটোয়ারী বলেন,
“চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বন্ধ করুন।”
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল দশা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সিলেটকে সম্প্রীতির শহর উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি; নচেৎ প্রকৃতি ও প্রাণ—সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন,
“সরকারের কিছু ভূমিকা প্রশংসনীয় হলেও দলীয়করণ ও দুর্নীতির সুযোগ দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”
নির্বাচনের ফল মেনে নিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সারজিস বলেন,
“আগামী স্থানীয় নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রমাণিত দোসর ও জুলাইয়ের বিরোধীদের প্রশ্রয় দিলে সরকার ফাঁদে পড়বে।
এ সময় এনসিপি নেতারা জুলাই সনদ অধ্যাদেশ কার্যকর এবং রাষ্ট্রপতিকে অভিসংশনের দাবি পূরণ না হলে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
ইফতার মাহফিলে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।