
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে হানিট্র্যাপ চক্রের ২ নারীসহ মোট ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কবল থেকে ২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালী থানাধীন মেন্দিবাগ পয়েন্ট এলাকা থেকে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলী (২৫)কে প্রতারণার মাধ্যমে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয় চক্রের সদস্যরা। পরে তাদের যতরপুর এলাকার একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়।
সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চক্রের সদস্যরা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে ভিকটিমদের উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে ভিকটিম মাহমুদুল হাসান রিফাত তার আত্মীয়দের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দিলে সন্দেহবশত তার পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
এরপর কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশনায় ১০ এপ্রিল ভোরে এসআই আনোয়ারুল ইসলাম পাঠানের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিমদের অবস্থান শনাক্ত করে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং ভিকটিমদের উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ১টি প্রাইভেট কার, ১টি সিএনজি অটোরিকশা, ৩টি মোবাইল ফোন এবং ছিনিয়ে নেওয়া iPhone 14 Pro Max ও একটি itel মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), মোঃ আব্দুল জলিল (৩০), জেসমিন আক্তার (২২) এবং মোঃ জায়েদ আহমদ (৩৫)।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় পেনাল কোডের একাধিক ধারাসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।