সিলেট ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে আসবে স্বস্তি : খন্দকার মুক্তাদির

প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ণ
কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে আসবে স্বস্তি : খন্দকার মুক্তাদির

Oplus_16908288

নিউজ ডেস্ক :

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে “সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য” স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষি পণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।

 

কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

 

তিনি আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।

 

কৃষি খাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত স্থানে এই হাটের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও তাজা পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন—যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এরপর একই দিন সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেখানে তিনি বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খাল পুনঃখনন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং বছরে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে নতুন বিপ্লব ঘটবে।

মন্ত্রী আরও জানান, কৃষকদের তথ্যভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সুবিধা সহজলভ্য হবে। একইসঙ্গে দেশের কৃষি জমির ম্যাপিং কার্যক্রম চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে বীজ ও সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

 

পরে দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে Youth Entrepreneurship & Startups for Students (YESS Program) উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা মানসিকতার বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘নলেজ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও শিল্পখাতে প্রয়োগযোগ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।