সিলেট ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নাস্তিক জাহিদ হাসান সহ ফের আলোচনায় ২৩ ব্যক্তি

প্রকাশিত মে ৮, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
নাস্তিক জাহিদ হাসান সহ ফের আলোচনায় ২৩ ব্যক্তি

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

নাস্তিক জাহিদ হাসান সহ দেশের শীর্ষ বিতর্কিত ২৩ ব্যক্তি  ফের আলোচনায় 

স্টাফ রিপোর্ট : বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ব্লগিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম, বিশেষ করে ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত ২৩ জন ব্যক্তি নিয়ে একটি দীর্ঘ তালিকা আবারও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তালিকায় লেখক, কবি, ব্লগার, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা, ইসলামবিদ্বেষ, সেক্যুলার চিন্তা প্রচার ও বিতর্কিত লেখালেখির অভিযোগ আনা হয়েছে।

তালিকার শুরুতেই রয়েছে লেখক আহমেদ শরীফের নাম। সেখানে তাকে স্বঘোষিত নাস্তিক উল্লেখ করে নারীর সতীত্ব ও যৌন স্বাধীনতা নিয়ে তার একটি বহুল আলোচিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, মৃত্যুর পর তার ইচ্ছা অনুযায়ী জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়নি।

এরপর আলোচনায় এসেছে লেখক হুমায়ুন আজাদ। লেখাটিতে তাকে বাংলা সাহিত্যে “অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ লেখার জনক” হিসেবে আখ্যা দিয়ে ধর্মবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তার মেয়ে মৌলি আজাদের একটি মন্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি বাবার লেখায় অতিরিক্ত যৌনতার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছিলেন।

আরজ আলী মাতব্বরকে নিয়ে বলা হয়েছে, সাধারণ কৃষক হয়েও তিনি ইসলাম ধর্ম নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং তার ইসলামবিরোধী অবস্থানের কারণেই নাস্তিক সমাজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

কবি শামসুর রহমান সম্পর্কেও তালিকায় তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তিনি আজানের ধ্বনি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন এবং মৃত্যুর পর কবর না চাওয়ার কথাও বলেছিলেন।

তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে তার নারী স্বাধীনতা ও শরীর নিয়ে করা বক্তব্য উদ্ধৃত করে সমালোচনা করা হয়েছে। একইভাবে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর কয়েকটি বহুল আলোচিত মন্তব্যও তালিকায় স্থান পেয়েছে, যেখানে ধর্ম, হজ ও মসজিদ নিয়ে তার বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের উল্লেখ রয়েছে।

বাউল লালন শাহকে “সুবিধাবাদী সেক্যুলার” আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি ধর্মীয় পরিচয়বিহীন সমাজের স্বপ্ন দেখতেন। অন্যদিকে ড. জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজে নাস্তিকতা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার আমেরিকায় পড়াশোনা ও পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

লেখক আনিসুল হককে নিয়ে কুরআনের সূরা ব্যঙ্গ করে প্যারোডি লেখার অভিযোগ পুনরায় সামনে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে সুলতানা কামাল, প্রবীর ঘোষ, কবির চৌধুরী, সৈয়দ শামসুল হক ও মুনতাসির মামুনের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডও তালিকায় সমালোচনার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

ব্লগার রাজীব হায়দার ওরফে থাবা বাবা এবং ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে নিয়ে সবচেয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননা, কুরআন ও মহানবী (সা.) নিয়ে কটূক্তি এবং সামাজিক মাধ্যমে ধর্মবিদ্বেষী লেখালেখির অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া ফরহাদ মজহার, শফিক রেহমান, দাউদ হায়দার, লোপা রহমান, জাহিদ হাসান, আসাদ নূর ও ফাহিমের নামও তালিকায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ম, সমাজব্যবস্থা, এলজিবিটিকিউ অধিকার এবং ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে বিতর্কিত অবস্থানের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

তবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই তালিকা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেকের মতে, তালিকাটিতে ব্যক্তিগত মতামত, রাজনৈতিক অবস্থান ও অসমর্থিত অভিযোগ একত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে তথ্য যাচাই ছাড়া এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় অনুভূতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে দায়িত্বশীল আলোচনা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়েও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।